নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর পণ্য বিক্রিতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ব্যাগের অতিরিক্ত দাম এবং খুচরা টাকা না থাকার অজুহাতে ৯২৮ জন কার্ডধারীর কাছ থেকে সুকৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় এক ডিলার। শুধু তাই নয়, নিজের ইউনিয়নের বাইরে পৌরসভায় প্রভাব খাটিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া এবং নামে-বেনামে একাধিক ডিলারশিপ দখলের বিস্ফোরক তথ্যও সামনে এসেছে। শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কলারোয়া পৌরসভা এলাকায় সরকারি টিসিবির পণ্য বিতরণকালে এ অনিয়মের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স স্বপ্নিল স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী ওহিদুজ্জামান (গ্রাম: গোয়ালচাতর, ইউনিয়ন: ৪ নং লাঙ্গলঝাড়া, থানা: কলারোয়া)। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তালিকা অনুযায়ী-গোসলের সাবান ৪৫ টাকা, কাপড় কাচা সাবান ২৩ টাকা, ভোজ্য তেল ২০০ টাকা, ডাল ১২০ টাকা, চিনি ৭০ টাকা। এই ৫টি পণ্যের প্রকৃত মোট মূল্য দাঁড়ায় ৪৫৮ টাকা। এর সাথে ৬ টাকা মূল্যের একটি ব্যাগের দাম ১০ টাকা ধরলেও সর্বমোট মূল্য হওয়ার কথা ৪৬৪ টাকা। কিন্তু ডিলার মেসার্স স্বপ্নিল স্টোর প্রতিটি কার্ডধারীর কাছ থেকে ৪৭০ টাকা করে আদায় করছেন। প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, ব্যাগ বাবদ অতিরিক্ত ৪ টাকা এবং খুচরা ২ টাকা না থাকার বাহানায় প্রতি কার্ডধারীর কাছ থেকে ৬ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে। শনিবার সকালে কলারোয়া পৌরসভায় মোট ৯২৮ জন কার্ডধারীর মাঝে পণ্য বিক্রি করা হয়। সেই হিসাবে একদিনেই গ্রাহকদের কাছ থেকে মোট ৫৫৬৮ টাকা অতিরিক্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে—যার মধ্যে ব্যাগ বাবদ ৩৭১২ টাকা এবং খুচরা টাকার অজুহাতে ১৮৫৬ টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওহিদুজ্জামানের স্থায়ী বাড়ি ৪ নম্বর লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নে হওয়া সত্ত্বেও তিনি অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কলারোয়া পৌরসভার টিসিবি ডিলার হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। এছাড়া তিনি সুকৌশলে কলারোয়া উপজেলায় ৩টি এবং সাতক্ষীরা সদরে ৩টিসহ মোট ৭টি ডিলারশিপ নামে-বেনামে নিজের দখলে রেখেছেন বলে স্থানীয়দের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম ও একাধিক ডিলারশিপের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডিলার ওহিদুজ্জামানের ব্যবহৃত সেল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এবং কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। একই সাথে জালিয়াতি ও একাধিক ডিলারশিপ দখলের বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।