প্রতিনিধি, কেশবপুর (যশোর)
কেশবপুরের ঐতিত্যবাহী সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের জানালার গ্রিল ও আসবাপত্র বিক্রি করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আত্নসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃস্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি মালামাল বিক্রি করতে হলে, উন্মুক্ত টেন্ডার বা দরপত্র আহবানের মাধ্যমে তা বিক্রি করার নিয়ম থাকলেও প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার নিয়ম-কানুনের কোন তোয়াক্কা না করে তিনি ওই মালামাল বিক্রি করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাগরদাঁড়ী এমএম ইনস্টিটিউশনের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে মেহেরুন্নেসা মেরি দায়িত্ব নেওয়ার পর, তাকে না জানিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত, সহকারি শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলু, গত ২০/০৮/২০২৬ তারিখে, ১১ টি জানালার (পুরাতন) গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল এবং বেশ কিছু লোহার পাইপসহ তামার তার বিক্রি করে দিয়েছেন। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। এব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের জানালার পুরাতন গ্রিল, বেঞ্চসহ বিভিন্ন মালামাল দুইলডে মোট ১লাখ ২ হাজার টাকা বিক্রয় করেছেন। তবে এই টাকা প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি এব্যাপারে এড়িয়ে যান। এলাকাবাসীরা জানান, প্রতিষ্ঠানের সরকারি মালামল বিক্রিতে কোনো রকম টেন্ডার বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কোন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই ওইসব মালামাল বিক্রি করেছেন। তবে স্থানীয়রা জানান, মালামাল বিক্রিয় কালে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির সভাপতি মেহেরুন্নেসা মেরি উপস্থিত ছিলেন না। সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান বুলুর যোগসাজসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওইসব মালামাল গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন।
এছাড়া বিদ্যালয়ের ভাড়া দেওয়া প্রায় ৭৪টি বানিজ্যিক দোকান মালিকদের অভিযোগ দোকানের জামানতের পরিমাণ একলাফে দ্বিগুন করার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের ওপর চাপ সৃস্টি করছেন। তারা বলেন, পূর্বনির্ধারিত চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ বা আলোচনা ছাড়াই বাড়তি অর্থ দাবি করা হচ্ছে, যা তাঁদের ব্যবসা পরিচালনা কঠিন করে তুলবে।
প্রতিষ্ঠানের একাধিক অভিভাবক জানান, এডহক কমিটির সদস্যদের কাজ হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক নিয়ম পাশ কাটিয়ে মালামাল বিক্রি করা না। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ গোপনে বিক্রিয় করা অপরাধ। এব্যাপারে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।
ব্যবসায়ী ডাক্তার সীমান্ত ও সহিদুল ইসলাম বলেন, তারা স্কুল পরিচালনা কমিটির সাথে চুক্তি মোতাবেক দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসা করে আসছেন। তাদের সাথে চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও বর্তমান এডহক কমিটির সদস্যরা দোকানের জামানত দ্বিগুন করতে তারা চাপ দিচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দত্ত বলেন, প্রতিষ্ঠানের পুরাতন জানালার গ্রিল, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিলসহ লোহার পাইপ দুইলটে ১লাখ ২ হাজার টাকা বিক্রি করা হয়েছে। যা প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির অনুমতি নিয়ে বিক্রয় করা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের ভাড়া দেওয়া ৭৪টি ঘরের মধ্যে ৩০টি দোকান ঘর প্রকৃত মালিকরা ব্যবসা না করে তারা বেশী ভাড়ায় অন্যেও কাছে ভাড়া দিয়েছেন। ওইসব দোকানসহ সকল ব্যবসায়ীকে আমরা নোটিশ দিয়েছি। বর্তমানে এসব দোকান সংস্কার করতে জামানাত বৃদ্ধি করার সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোন মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে অবশ্যই পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ্যে টেন্ডার আহবানসহ এলাকায় প্রচার মাইক বের করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে নতুন যোগদান করেছি। তবে সাগরদাঁড়ি এমএম ইনস্টিটিউশনের পুরাতন মালামাল বিক্রিতে কোন অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।