নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কমিটিতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ও গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন লিটন।
আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি সম্প্রচারে (লাইভ) এসে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি গাবুরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে একটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও লাইভে শোনান তিনি।
সালাউদ্দিন লিটনের অভিযোগ, বিএনপির দুঃসময়ে যারা দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের অনেককে কমিটিতে মূল্যায়ন করা হয়নি। অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের কমিটি দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। তাই দ্রুত কমিটি বিলুপ্ত করে দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করা নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।
সালাউদ্দিন লিটন আরও অভিযোগ করেন, গাবুরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব খায়রুল ইসলাম একজন ‘চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ী’। এ অভিযোগের পক্ষে তিনি একটি ফোনালাপের রেকর্ড প্রকাশ করেন। তবে ওই ফোনালাপের সত্যতা ও এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গাবুরা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব খায়রুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নতুন কমিটিতে কারা স্থান পেয়েছেন এবং তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় কী—এ বিষয়ে দলীয়ভাবে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এদিকে কমিটি প্রকাশের পর স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী পক্ষের নেতা-কর্মীরা।