নাসির উদ্দিন লিটন,স্টাফ রিপোর্টার্স
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের অধীনে মাদারীপুরে 'গ্রাম আদালত কার্যক্রম' সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরীতে প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় স্হানীয় অংশীজনদের সাথে সমন্বয় সভা বুধবার
(৯ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩ ঘটিকার সময় মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার , পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মর্জিনা আক্তার,সভায় সভাপতিত্ব করেন মোছা: জেসমিন আকতার বানু, উপপরিচালক (উপসচিব), স্থানীয় সরকার, মাদারীপুর। জেলা প্রশাসক তার আলোচনায় বলেন আপনারা এখানে যারা এসেছেন তারা সকলেই যার যার অবস্থান থেকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আপনাদের মাধ্যমে প্রচার- প্রচারণা করতে হবে। প্রচার প্রচারনা ছাড়া সাধারন জনগন এই গ্রাম আদালতের সুফল সম্পর্কে অবগত হতে পারবেনা। গ্রাম আদালত যেহেতু অনধিক সর্বোচ্চ ৩,০০০০০/- তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ সমাধান করতে পারে তাই ছোট খাটো বিরোধ গুলো এই গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে এই তথ্য সকলের দৌড় গোড়ায় পৌঁছাতে হবে। তিনি উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারীদের বলেন আপনাদের যার যার অবস্থান থেকে আপনাদের দপ্তরে অনেক সাধারন জনগন সেবা নিতে আসে তাই সকলের কাছে
এই গ্রাম আদালতের সুফল দিক তুলে ধরতে হবে যাতে তারা ছোট খাটো সমস্যা নিয়ে থানায় বা কোর্টে না গিয়ে এই গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিচার পায় এবং সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালত সম্পর্কে জানতে পারে। তিনি আরও বলেন উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে আপনাদের বিভিন্ন সভা সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় সেখানে উপস্থিত জনগণের মাঝে গ্রাম আদালতের সুবিধা নিয়ে আলোচনা করবেন।
সমন্বয় সভায় সভাপতি
মোছা: জেসমিন আকতার বানু, উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার তার আলোচনায় বলেন এখানে যে সকল সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিরা এসেছেন তারা আপনাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে মিটিং, ওয়ার্কশপ, সেমিনার, উঠান সভা, অভিবাবক সভা এমনকি যারা মসজিদের ইমাম আছেন আপনারা জুম্মায় খুতবায় গ্রাম আদালতের সুফল নিয়ে আলোচনা করবেন এবং যারা পুরোহিত আছেন আপনারা অবশ্যই মন্দিরে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে গ্রাম আদালত নিয়ে আলোচনা করবেন।
বিশেষ করে গ্রাম আদালত কোন ধরনের মামলা নিতে পারে ও কোন ধরনের মামলা নিতে পারেনা তা নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি আরো অবহিত করেন বর্তমানে গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ এবং সংশোধনী ২০২৪ এ বলা হয়েছে বকেয়া ভরন পোষনের মামলা নারীরা গ্রাম আদালতের মামলা করতে পারবে এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সকলকে প্রচার করতে হবে।
বিগত ৫ মাসে মাদারীপুর জেলায় মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন মোঃ আলিউল হাসানাত খান, ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার, এভিসিবি-৩ প্রকল্প। তিনি অবহিত করেন মাদারীপুর জেলায় ৫৯ টি ইউনিয়ন পরিষদে বিগত এপ্রিল ২০২৫ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত মোট মামলা দায়ের করা ৭৭৯ টি এর মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে ৪৮ টি মামলা গ্রাম আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। জেলায় মোট ৭৮২ টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে যার মাধ্যমে ৯৭,৩৭,৫০০/- (সাতানব্বই লক্ষ সাইত্রিশ হাজার পাঁচশত) টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া বিগত সময়ে মাঠ পর্যায়ে যে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে তার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। উক্ত সভা সঞ্চালনা করেন সাহেদ কবীর, সহকারী কমিশনার, স্থানীয় সরকার শাখা, মাদারীপুর। উল্লেখ্য সভায় মাদারীপুর জেলার ডিআরটি সদস্য এবং সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধি, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সাংবাদিক, মসজিদের ইমাম, পুরোহিত ও উপজেলা কো-অর্ডিনেটর সহ মোট ৩৫ জন অংশগ্রহণ করেন।