শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে নিয়মিত সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কর্মসূচিতে এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে খুলনায় এক এডভোকেসী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে শেরে বাংলা রোডস্থ নগর স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সামাজিক মাধ্যম সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
দাতা সংস্থা ইউনিসেফ-এর সহযোগিতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ এ সভার আয়োজন করে।
সভায় ২০২২ সালের একটি সমীক্ষা তুলে ধরে জানানো হয়, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৭ লাখ নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং তাদের অর্ধেকেরও বেশি মৃত্যুবরণ করেন। বিকাশমান ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি। বাংলাদেশে নারীদের ক্যান্সারজনিত রোগের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের পরেই জরায়ুমুখ ক্যান্সারের অবস্থান। ২০১৭ সালে দেশে ৮ হাজারের বেশি নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৫ হাজারের বেশি রোগী মারা যান। তবে বিয়ের পূর্বে অর্থাৎ ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এইচপিভি ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে পারলে প্রায় ৯৫ শতাংশ নারীকে জরায়ুমুখ ক্যান্সার থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, "টিকা প্রদানে ধারাবাহিকতার ঘাটতি থাকায় শুধু খুলনায় হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২৫ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এ ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন।" এইচপিভি টিকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে বিদ্যালয়ে পোস্টার স্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেন।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মোঃ আশরাফ আলী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ মোঃ নুরুল ইসলাম, ইমাম পরিষদ-খুলনার সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম কিবরিয়া ও ইউনিসেফ-খুলনার ইপিআই স্পেশালিস্ট তাপস কুমার বিশ্বাস। সভাটি পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম।