বিশেষ প্রতিবেদক
ফেসবুক লাইভে লটারির নামে স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রি ও অনলাইন জুয়ার ফাঁদ পেতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি যশোর থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। তবে এই চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল নির্দেশক বা ‘মাস্টার এজেন্ট’ হিসেবে উঠে এসেছে শ্যামনগর উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফির নাম। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে শফির আপন ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম ও ছোট বোনের জামাই (বোনাই) শাহীন আলম গ্রেপ্তার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন মূল কারিগর শফি নিজেই।
র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, গত সোমবার বিকেলে যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, ১০টি মোবাইল ফোন ও বিপুল পরিমাণ জুয়ার কার্ড উদ্ধার করা হয়। মূলত প্রবাসী ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে ফেসবুক লাইভে প্রলোভন দেখিয়ে এই স্ক্র্যাচ কার্ড বিক্রি করা হতো।
তবে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই জুয়া চক্রের নিয়ন্ত্রণ ছিল খুলনা থেকে পরিচালিত শফিকুল ইসলাম শফির হাতে। শফি তার আপন চাচাতো ভাই, আত্মীয়স্বজন ও এলাকার প্রতিবেশীদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে এজেন্ট নিয়োগ করে এই বিশাল জুয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
খুলনায় পড়াশোনার সুবাদে অবস্থান করা শফি ৫ই আগস্টের পর থেকে এলাকায় গড়ে তোলেন এক নিজস্ব সাম্রাজ্য। শ্যামনগর থানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং অস্ত্র লুটপাটের সাথে তার প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন স্থানীয়রা। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, থানার লুট হওয়া অস্ত্রও তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে শফি ও তার চক্রটি কৈখালী ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে মামলা ও হামলার ভয় দেখিয়ে একচ্ছত্র চাঁদাবাজি শুরু করে। জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং অনৈতিক অনলাইন জুয়া থেকে প্রাপ্ত টাকায় অতি অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন শফি। সম্প্রতি তিনি খুলনার বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় জমি কেনার পাঁতারা করছেন বলেও জানা গেছে।
শুধু জুয়া নয়, শফির পরিবারে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক যোগসাজশ। তার আপন বড় বোনাই নুরু ইসলাম রনি ছিলেন কেন্দ্রীয় সৈনিক লীগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সক্রিয় প্রভাবশালী নেতা। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, রনি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার ‘মাস্টার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে আসছেন। আওয়ামী লীগের বড় পদে থেকেও ৫ই আগস্টের পর রনি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নিজেকে আড়াল করে গ্রেপ্তার এড়িয়ে গেছেন।
যশোর থেকে ছোট ভাই আরিফুল ইসলাম ও ছোট বোনাই শাহীন আলম র্যাবের হাতে আটক হলেও, মূল পরিকল্পনাকারী শফিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ। চক্রটির মূল শেকড় উপড়ে ফেলতে এবং লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারসহ যাবতীয় দুর্নীতির তথ্য উন্মোচনে সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও র্যাব-৬-এর আশু জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন