আবুজার গাজী,স্টাফ রিপোর্টার।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর এলাকায় ৭ পিস ইয়াবাসহ আশিক মন্ডল নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে সোপর্দ করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিনগর এলাকায় আশিক মন্ডলের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে থামার নির্দেশ দেন। এ সময় তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রবিউল ইসলাম ও সাদ্দাম হোসেন নামের দুই স্থানীয় যুবক ধাওয়া করে তাকে ধরে ফেলেন। পরে তাকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে আশিক মন্ডলকে হেফাজতে নেয়। এ সময় স্থানীয়দের দাবি, আটকের পর তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, আটকের পর আশিক মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে ইয়াবা সংগ্রহের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে তিনি মনির নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে ইয়াবা কেনার কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া বন্ধু ইমরানসহ অন্যদের সঙ্গে মিলে ইয়াবা সেবনের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
আশিক মন্ডলের দেওয়া এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত মনিরের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাজুড়ে নানা আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হরিনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কেনাবেচা ও সেবনের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ কতখানি সত্য এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত, তা নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা জরুরি।
আশিক মন্ডলের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা এবং ভিডিওতে উঠে আসা বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য আরও স্পষ্ট হবে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল একজন আটক ব্যক্তির বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের আগে কাউকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিযুক্ত করা আইনগতভাবে সমীচীন নয়। ভিডিওতে যাদের নাম এসেছে, পুলিশ প্রশাসনের উচিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যাচাই করা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন