শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ:
খুলনার উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছায় চলতি মৌসুমে অর্থকরী ফসল সুপারির হাট-বাজারগুলোতে পুরোদমে কেনাবেচা চললেও ফলন ও দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উপজেলার নতুন বাজার, গদাইপুর, আগড়ঘাটা, কপিলমুনি, বাঁকা ও মাটিপাড়া সহ বিভিন্ন বাজারে এখন সুপারি বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো হলেও গত বছরের তুলনায় এবার চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়ার অভাব ও বাজার মূল্যের ওঠানামার কারণে উপকূলের সুপারি চাষিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পাইকগাছা উপজেলায় বর্তমানে মোট ৪০ হেক্টর জমিতে সুপারির আবাদ হয়েছে। ছোট-বড় মিলিয়ে এসব সুপারি বাগানে গাছের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার ৪০০টি। গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এই বিপুল পরিমাণ গাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চাষিদের অভিযোগ, রোগবালাই আর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবার কাঙ্ক্ষিত ফলন আসেনি। উপজেলার গদাইপুর গ্রামের সুপারি বাগান মালিক শফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, “এ বছর বাগানে সুপারির ফলন মোটেও ভালো হয়নি। এর ওপর বাজারে এসে দেখছি সুপারি দামও বেশ কম। খরচ তুলে লাভ করা এবার কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।” বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও দামের ওঠানামা করছে।
স্থানীয় সুপারি ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলামসহ একাধিক আড়তদার জানান, এবার বাজারে আগের চেয়ে সুপারির আমদানি বা পরিমাণ কিছুটা কম। তবে ফলন কম থাকা সত্ত্বেও বাজারে সুপারির দাম বেশ অস্থির এবং ক্রমাগত ওঠানামা করছে। মৌসুমের শুরুতে প্রতি কুড়ি সুপারি ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হলেও, ভরা মৌসুমে বাজারের মন্দাভাবের কারণে বর্তমানে তা কমে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। এ অঞ্চলে সুপারির বিপণন ও গণনার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন আঞ্চলিক নিয়ম অনুসরণ করা হয়। এ এলাকায় ৫৫ গণ্ডায় অর্থাৎ ২২০টি সুপারিকে ‘এক কুড়ি’ হিসাব করা হয়। স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ী ও পাইকাররা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি এই সুপারি কিনে নিচ্ছেন। পরবর্তীতে সেগুলো বস্তাভর্তি করে আশাশুনি, বড়দল, সোলাদানা, গড়ইখালী পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন হাট-বাজারের বড় আড়তগুলোতে বিক্রির জন্য চালান করা হচ্ছে। অনেক আড়তদার আবার এই কম দামের সুপারি নদী বা চৌবাচ্চায় ভিজিয়ে রাখছেন, যা পরবর্তী সময়ে শুকনো মৌসুমে চড়া দামে বিক্রি করা হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, “সুপারি এ অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে অন্যতম লাভজনক একটি অর্থকরী ফসল। পাইকগাছার সুপারির মান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর চাহিদা রয়েছে। তবে প্রাকৃতিক কারণে ইদানীং পুরোনো ও অতিরিক্ত লম্বা গাছগুলো মারা যাওয়ায় নতুন করে বাগান সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।” কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত আধুনিক ও উচ্চ ফলন জাতের সুপারি চাষে উৎসাহিত করা এবং রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উপকূলীয় এই জনপদে সুপারির আবাদ বৃদ্ধি হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ও গতিশীল প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন