মোঃ বাদল রানা,ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি
ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় শিল্প-সংস্কৃতির প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ‘রাণীশংকৈল শিবদিঘী নাট্য ও সংগীত একাডেমী’। স্থানীয় পর্যায়ে সুস্থ ধারার নাটক মঞ্চায়ন ও শিল্পীদের মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
একাডেমিটির সভাপতি ও পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তরুণ নাট্যকর্মী ও সংবাদকর্মী মো. বাদল রানা। তিনি নিজেই বিভিন্ন সামাজিক ও সচেতনতামূলক নাটকে সফলতার সঙ্গে অভিনয় করে আসছেন। এখন পর্যন্ত তিনি আটটিরও বেশি মঞ্চ নাটকে প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘বধু এলো ঘরে’, ‘আব্দু’, ‘নাটক কম কর প্রিয়’, ‘সর্বনাশা ইয়াবা’, ‘রফিক মাহাত’, ‘সংসার হলো শ্মশান’, ‘আমি মা হতে চাই’ এবং ‘নেশার দশা’। এসব নাটকে তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয় সমাজ সচেতনতায় বিশেষ বার্তা দিয়ে আসছে।
নাট্য একাডেমীটির নাটকগুলোতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে কাজ করছেন একদল নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী। এর মধ্যে পিতাসহ বিভিন্ন বয়স্ক ও প্রবীণ চরিত্রে নিয়মিত অভিনয় করে আসছেন বিশিষ্ট নাট্যকার, কবি ও লেখক—আর ডি থিয়েটারের মো. জালাল উদ্দীন। তাঁর সুনিপুণ লেখনী এবং সাবলীল অভিনয় নাট্যমোদীদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
এছাড়া নারী চরিত্রে বিভিন্ন নাটকে নিয়মিত অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীরা। এই দলে রয়েছেন—মোছা. সুরমা, মৈত্রী, অনুরাধা, ফিমা, বর্ষা ও বিথীসহ অন্যান্য শিল্পীরা। তাদের সম্মিলিত অভিনয়ে প্রতিটি মঞ্চায়নই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মতে, রাণীশংকৈলের মতো মফস্বল এলাকায় শিবদিঘী নাট্য ও সংগীত একাডেমী যেভাবে নাট্যচর্চাকে টিকিয়ে রেখেছে এবং যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে নাটকের মাধ্যমে সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সরকারি বা বেসরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই নাট্যদলটি জাতীয় পর্যায়ে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য করুন