বাবলু গাজী, শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা জি এল এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় একাধিক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। সদ্য অনুমোদিত এই অ্যাডহক কমিটিকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের বিদ্যালয় পরিদর্শক মুঃ এনামুল কবির স্বাক্ষরিত গত ৩১ আগস্টের একটি চিঠিতে আগামী ৬ মাসের জন্য এই অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত কমিটিতে মীর রেজাউল হোসেনকে সভাপতি এবং ইমাম হাসানকে অভিভাবক সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত কমিটির সভাপতি মীর রেজাউল হোসেনের পরিবার সরাসরি আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার বড় ভাই মীর আঃ রাজ্জাক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক এবং অভিভাবক সদস্য ইমাম হাসান ইউনিয়ন যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক ইয়াছিমুর রহমান লিংকন ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মামুনুল হাসান শামীমের যোগসাজশে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের পুনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে। প্রধান শিক্ষক ইয়াছিমুর রহমান গাবুরা ইউনিয়নের সাবেক বিতর্কিত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা লেলিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষক মামুনুল হাসান শামীম গাবুরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, বিগত সরকারের আমলে এই চক্রের প্রভাবে বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও সম্পদ আত্মসাতের মতো নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অতীতের অনিয়ম আড়াল করতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মিলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিতর্কিত ব্যক্তিদের তালিকা যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক ইয়াছিমুর রহমান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক মামুনুল হাসান শামীমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং তারা ফোন রিসিভ করেননি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এই অ্যাডহক কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল ও অভিভাবকবৃন্দ।
মন্তব্য করুন