আশাশুনি প্রতিনিধি
আশাশুনি থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াত নেতা,স্বনামধন্য ফুটবল কোচ, রেফারি ও ঢাকা বি-লিগের সাবেক খেলোয়াড় কামাল হোসেনের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে মৎস্য ঘেরের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। হামলায় গুরুতর আহত কামাল হোসেন বর্তমানে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে আশাশুনি থানায় এজাহার দিয়েছেন তিনি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়,মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মৎস্য ঘের সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে থানায় সালিশের দিন ধার্য ছিল। তবে অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত না হওয়ায় পরে বসার কথা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ৭টার দিকে কামাল হোসেন শ্রীউলা গ্রামের ফিরোজ গাজীর বাড়ির পেছনে পাকা সড়কের কাছে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে হামলা চালায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
কামাল হোসেনের অভিযোগ,অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তার দুই পা,কাঁধ, মাথা ও বাম হাতে আঘাত লাগে। এক্সরে পরীক্ষায় দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়,হামলার সময় কয়েকজন অভিযুক্ত তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করে এবং গামছা দিয়ে গলা চেপে ধরার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তার শার্টের বুক পকেটে থাকা ৫ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং জামাকাপড় ছিঁড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
কামাল হোসেনের ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে আশাশুনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
কামাল হোসেন জানান,শ্রীউলা মৌজায় তার পৈতৃক ও দলিলকৃত প্রায় ৩ বিঘা জমিতে মৎস্য ঘের রয়েছে। ঘের দখলের চেষ্টা ও পূর্ববিরোধের জেরে তাকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এ ঘটনায় হেলাল সরদারসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিবাদী হেলাল সরদার বলেন,“আমরা থানায় গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে বসার জন্য দিন পরিবর্তন করে নিয়েছি। কামাল হোসেনকে মারধরের বিষয়টি আমি জানি না। কে বা কারা তাকে মেরেছে,সেটিও জানি না। এ বিষয়ে আমার বাপ-চাচারা ভালো বলতে পারবেন।”
আশাশুনি থানার এসআই কামরুল ইসলাম জানান,মঙ্গলবার বিকালে শ্রীউলার ঘেরের বিষয় নিয়ে বসার দিন ধার্য ছিল,বিবাদীরা না হাজির না হওয়ায় বসা হয়নি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কামাল হোসেন হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন