কেশবপুর প্রতিনিধি:
যশোরের কেশবপুরে মাত্র দুটি রঙিন মাছ দিয়ে শুরু করে এখন লক্ষাধিক মাছের পোনা উৎপাদন করছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. আব্দুল্লাহ (২২)। শখের বশে শুরু করা সেই উদ্যোগ আট বছরের পরিশ্রমে পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক খামারে। বর্তমানে ৫৬টি হাউজ ও পুকুরে প্রায় ২২ প্রজাতির রঙিন মাছ চাষ ও প্রজনন করছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মাগুরখালি গ্রামের হাবিবুর রহমান গাজীর ছেলে তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহর খামারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন আকার ও রঙের অসংখ্য মাছের পোনা। ছোট পরিসরে শুরু করা উদ্যোগটি এখন বড় পরিসরের বাণিজ্যিক খামারে রূপ নিয়েছে।
আব্দুল্লাহ জানান, প্রায় আট বছর আগে শখ থেকেই দুটি রঙিন মাছ সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে মাছের সংখ্যা ও প্রজাতি বাড়াতে থাকেন। একপর্যায়ে শখের কাজকে বাণিজ্যিকভাবে করার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে লক্ষাধিক রঙিন মাছের পোনা।
তার খামারে ফাইটার ফিশ, গোল্ডফিশ, কইকাপ, কমেট, গাপ্পি, মলি, প্লাটি ও জেব্রাসহ প্রায় ২২ প্রজাতির রঙিন মাছ রয়েছে। এসব মাছের প্রজনন ও পোনা উৎপাদনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে মাছ বিক্রি করছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে বিক্রির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন আব্দুল্লাহ। অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা তার কাছ থেকে রঙিন মাছ ও পোনা সংগ্রহ করছেন।
আব্দুল্লাহ বলেন, “শখ থেকে দুটি মাছ দিয়ে শুরু করেছিলাম। তখন ভাবিনি এটি একদিন আয়ের অন্যতম উৎস হবে। এখন এটিকে আরও বড় পরিসরে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছি।”
তার উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার প্রায় এক ডজন তরুণ রঙিন মাছ চাষ ও প্রজননে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে নতুন উদ্যোক্তা মাইনুদ্দিন হাচান জুনায়েদ বলেন, “বাড়ির আঙিনা বা অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে রঙিন মাছ চাষ করে তরুণরা আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।”
কেশবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, “অল্প জায়গায় রঙিন মাছ চাষ সম্ভব এবং এর বাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে। বাড়ির আঙিনা বা অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে তরুণরা এ চাষে আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। আব্দুল্লাহর উদ্যোগ অন্য তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক।”
মাত্র দুটি মাছ দিয়ে শুরু করা আব্দুল্লাহর উদ্যোগ এখন কেশবপুরের তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে রঙিন মাছের উৎপাদন আরও বাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা এবং আরও তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
মন্তব্য করুন