শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধি:
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ‘‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’’ বাস্তবায়ন ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে র্যালির উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
র্যালিটি শহিদ হাদিস পার্ক থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমাদেরও সম্মিলিতভাবে খুলনা মহানগরীতে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমি সকল নগরবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”
র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সরকারের প্রতিটি বিভাগ ও প্রতিষ্ঠান স্ব স্ব উদ্যোগে তাদের আওতাধীন এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “যে জীবনগুলো ঝরে গেছে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে সমন্বিত চেষ্টা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে ডেঙ্গুতে যেন আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে সে লক্ষ্যে আমাদের কাজ করে যেতে হবে।”
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেসিসির গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রশাসক জানান, নগরীতে বর্তমানে তিনটি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু রয়েছে এবং নতুন করে আরও তিনটি ক্যাম্প স্থাপনের কাজ চলছে। পাশাপাশি চিহ্নিত ‘রেড জোন’গুলোতে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনলাইন সংযোগের মাধ্যমে দেশের সব জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের সাথে খুলনা সিটি কর্পোরেশনও শহিদ হাদিস পার্ক প্রান্ত থেকে সরাসরি কর্মসূচিতে যুক্ত হয়।
অনুষ্ঠানে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক ভিপি আসাদুজ্জামান মুরাদ, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মিউল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল ইমরানসহ কেসিসির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি), জেলা প্রশাসন, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস, স্কাউটস, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্ট ভলান্টিয়ার্স, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও নাগরিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং নগরীর গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মন্তব্য করুন