বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনা বেতাগীতে স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও স্বামীর পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মোসাঃ লাবনী আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত লাবনী আক্তার উপজেলার ৩ নং হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মোতালেব সিকদারের মেয়ে। তিনি একই এলাকার প্রবাসী রমজান আলীর স্ত্রী। তাদের মোঃ তাওহীদ (৮) নামে এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে লাবনী ও তার স্বামী রমজান আলীর মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ঝামেলা চলছিল। পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার আগে রমজান আলী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিদেশ থেকে ঢাকায় ফেরার পরও তিনি তিন দিন পর বাড়িতে আসেন। ওই তিন দিন তিনি কোথায় ছিলেন, তা নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রমজান আলী। সংবাদকর্মীদের তিনি জানান, বিদেশে যাওয়ার আগে তাদের মধ্যে একটি সমস্যা হয়েছিল। দেশে ফেরার পর তার স্ত্রীকে ছাড়া অন্য কাউকে তিনি সোনার নেকলেস দিয়েছেন—এমন মিথ্যা কথা কে বা কারা বলেছে, তা নিয়েও স্ত্রীর সঙ্গে সমস্যা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি জলিশাবাজারে গিয়েছিলেন। পরে তার মা ফোন করলে তিনি বাড়িতে ফিরে এসে স্ত্রীকে জীবিত অবস্থায় পাননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রমজান আলী ও লাবনী আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকও হয়েছে বলে জানান তারা।
বেতাগী থানার অফিসার্স ইনচার্জ ( ওসি )মোঃ হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে পুলিশ যাওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যরা গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় গৃহবধূকে নিচে নামিয়ে আনেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এরপর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন