মোঃ আব্দুল গফুর, বিশেষ প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আবাদ চন্ডিপুর গ্রামে অপরিকল্পিত মৎস্যঘের ও পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। টানা কয়েক দিনের জলাবদ্ধতায় গ্রামটির পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি, যাতায়াতের প্রধান সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমনকি এলাকার কবরস্থানগুলোও হাঁটুসমান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগ ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আবাদ চন্ডিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৭ নম্বর উত্তর আবাদ চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে সাংবাদিক মিজানের বাড়ি হয়ে মির্জাপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক এখন সম্পূর্ণ পানির নিচে। কোথাও হাঁটুসমান পানি, আবার কোথাও সড়কের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বসতভিটা ও উঠানে পানি থইথই করায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দৈনন্দিন জীবন ও শিক্ষা কার্যক্রমে। রান্নার চুলার জায়গা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক গৃহবধূকে বাধ্য হয়ে দূরের অন্য বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার এনে পরিবারকে খাওয়াতে হচ্ছে। এছাড়া সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যাওয়ায় এবং অনেক অভিভাবক ঝুঁকি এড়াতে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে না চাওয়ায় শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। বয়স্ক ও শিশুদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন অসহায় পরিবারগুলো।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, এলাকার প্রায় সব কবরই পানিতে তলিয়ে গেছে এবং অনেক কবরের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্থানীয়দের আক্ষেপ, স্বজনদের কবর জিয়ারত করার উপায় নেই; এমনকি এলাকায় কেউ মারা গেলে তাঁকে দাফন করার মতো শুকনো জায়গাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে মৎস্যঘের গড়ে তোলায় পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গোটা এলাকায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সড়ক সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও সুফল মেলেনি।
অভিযোগের বিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একটি মামলায় কারাগারে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা এখনো প্রত্যাহার হয়নি। তবে বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। আমার মৎস্য প্রকল্পের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে থাকলে তা সমাধানের জন্য প্রায় ২০০ ফুট পাইপ কেনা হয়েছে এবং দ্রুত তা স্থাপন করা হবে।’
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক জানান, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন