মোঃ সোহেল রানা ( বরগুনা )
বরগুনার বেতাগীতে বৈদ্যুতিক লাইনে শর্টসার্কিটের ঘটনায় আগুনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে হুড়োহুড়ি করে ভবন থেকে নামতে গিয়ে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিগার সুরাইয়া আক্তারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটির কারণে শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আগুন লাগার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে শিক্ষার্থীরা ভবন থেকে নিচে নামতে শুরু করে। এ সময় সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।
আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিগার সুরাইয়া আক্তার, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়রা ও প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিথিসহ অন্তত ১৫ জন রয়েছে। স্থানীয় লোকজন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
গুরুতর আহত নিগার সুরাইয়া আক্তার বেতাগী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক মন্টুর মেয়ে। তাকে প্রথমে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক দিনের ছুটি ঘোষণা করে। পাশাপাশি শর্টসার্কিটের কারণ, বৈদ্যুতিক সংযোগের অবস্থা এবং ভবনের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ঘটনার কারণ ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি উঠে এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন