আজিজুর রহমান, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যাদবপুর ফুলবাড়িয়া সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক জনাব মো. আব্দুল মজিদ অবসরে গেছেন। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মাদ্রাসা মিলনায়তনে তাঁকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আবেগঘন এ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও স্বজনদের চোখে ছিল অশ্রু, মনে ছিল কৃতজ্ঞতা।
“আজ আপনার বিদায়ে চোখে জল আসলেও মন ভরে গেছে কৃতজ্ঞতায়, কারণ আপনি ছিলেন আমাদের সকলের শ্রদ্ধার পাত্র” শীর্ষক ব্যানারে মাদ্রাসার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা। সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা আবুল বাশার। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মাদ্রাসায় আসার পর শিক্ষার্থীরা ফুল দিয়ে বিদায়ী শিক্ষককে বরণ করে নেয়। এ সময় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সহকর্মী শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন অমলকৃষ্ণ মন্ডল, সজিবুল ইসলাম, সুমন কুমার সরকার ও সুরাইয়া নাসরিন। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন আব্দুল আজিজ ও রাশিদুল ইসলাম। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন নবম শ্রেণির নুর আলম, সিমলা খাতুন ও ফাতেমা খাতুন। বক্তারা আব্দুল মজিদের দীর্ঘ কর্মজীবনের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয় বিদায়ী শিক্ষকের মেয়ে ও এই মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী মাকসুদা খাতুন শিল্পীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, “আমরা তিন ভাইবোন বাবার এই প্রতিষ্ঠানেই লেখাপড়া করেছি। বাবা কখনো শ্রেণিকক্ষে আমাদের আলাদা নজরে দেখেননি, সবাইকে একই নজরে দেখতেন।” বক্তব্যের একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বাবাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “বাবা, কখনো বলা হয়নি, আমি আপনাকে অনেক ভালোবাসি।” এ সময় উপস্থিত অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। বিদায়ী শিক্ষকের নাতি ফারহান তানজিম কাব্যও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল মজিদ বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকেই তিনি প্রথম দাখিল পরীক্ষা দিয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরে এখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিনি পুরোনো সহকর্মীদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি শিক্ষকদের শ্রদ্ধা করতে ও মন দিয়ে লেখাপড়া করতে পরামর্শ দেন।
এ সময় সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা আবুল বাশার বিদায়ী শিক্ষকের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি গোলাম মোস্তফা বক্তব্য দেন। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালের ১ জুলাই আব্দুল মজিদ এ মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর কয়েক বছর আগে তিনি এই মাদ্রাসা থেকেই দাখিল পাস করেন।
মন্তব্য করুন