শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাংবাদিক মেহেদী হাসান মারুফকে হত্যার চেষ্টা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি এবং তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির আশঙ্কার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
সাংবাদিক মেহেদী হাসান মারুফ ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সকালবেলা ও সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দক্ষিণের মশাল পত্রিকায় প্রতিনিধি এবং শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক।
গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান মারুফ। আবেদনে নকিপুর এলাকার মোছা. শরিফা খাতুন, ভূমিহীন নেতা জবরদখল কারী মো. মোকছেদ আলী, পিতা: সকিমুদ্দী মোছা. আসমা খাতুন স্বামী: আতাউর রহমান ও মোছা. আকলিমা খাতুনসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
জিডির আবেদনে মেহেদী হাসান মারুফ উল্লেখ করেন, বিবাদীদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে বিবাদীরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি, হুমকি ও হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। জমি দখলের প্রতিবাদ করায় বিবাদীপক্ষ তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময় মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২৫ আগস্ট সকালে তিনি তার ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে নিজ কর্মস্থলে চলে যান। পরে স্কুলে অবস্থানরত অবস্থায় বিবাদীপক্ষের লোকজন তাকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন ধরনের গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মেহেদী হাসান মারুফের দাবি, বিবাদীরা তার জমি জোরপূর্বক দখলের পাশাপাশি তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছেন। এছাড়া ভবিষ্যতে তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং এলাকা থেকে বিতাড়িত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সাংবাদিক মেহেদী হাসান মারুফ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।
আবেদনে ঘটনার বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন