শাহিনুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
একদিকে পেশাগত পরিচয়ে নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসাসেবা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলা- এই দুই পরিপূরক ভূমিকার সমন্বয়ে খুলনা জেলার পাইকগাছার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক পরিচিত ও বিশ্বস্ত মুখ ডা. মো. আব্দুল মজিদ। বর্তমানে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্বে থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন।
বিশেষ করে বিগত দিনের কঠিন রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, দফায় দফায় রাজনৈতিক মামলা ও হয়রানির পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সমুখভাগে থেকে সংগঠনকে সক্রিয় রাখার নিরলস চেষ্টা চালিয়েছেন বলে স্থানীয় দলীয় সহকর্মীরা নিশ্চিত করেন।
তবে তাঁর এই রাজনৈতিক পথচলা কখনোই মসৃণ ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলীয় অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতির নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে পাইকগাছা উপজেলা বিএনপিকে। এসব জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও দলের মূল চেতনাকে ধরে রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন বলয়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও সমন্বয় সাধনে ডা. মজিদ ভূমিকা পালন করেন।
পাইকগাছা বিএনপির সাম্প্রতিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ধারাবাহিক ও সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালে দলীয় কর্মসূচিতে তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়ে তিনি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তৃণমূল পুনর্গঠন সভা এবং গণসংযোগে নামেন। রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভা থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য আয়োজিত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ক্যাম্পেও তিনি নেতৃত্ব দেন। এছাড়া স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে মণ্ডপ পরিদর্শন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করেন।
ডা. আব্দুল মজিদের জন্ম ১৯৬৪ সালের ৮ মে পাইকগাছা উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামে। তাঁর বাবা মরহুম আনিছ উদ্দীন ছিলেন একজন সম্মানিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সরকারি চাকরিজীবী। নিজ গ্রামে শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৭৯ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি এবং ১৯৮১ সালে সফলতার সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮৯ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
উচ্চশিক্ষা অর্জনের পর সরকারি চাকরির দিকে না গিয়ে নিজ এলাকার মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রতিষ্ঠা করেন ‘আল আমিন ক্লিনিক ও হাসপাতাল’। চিকিৎসাসেবাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা স্থানীয় সামাজিক মেলবন্ধনই তাঁর রাজনীতিতে আসার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও লক্ষ্য সম্পর্কে ডা. আব্দুল মজিদ বলেন, “আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করি। অন্যায়, দখলবাজি কিংবা চাঁদাবাজির কাছে মাথা নত না করে সেই আদর্শের সঠিক বাস্তবায়ন ও দলকে সুসংগঠিত করাই আমার লক্ষ্য।” আগামী দিনে পাইকগাছা বিএনপির সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান সাংগঠনিক দায়িত্ব।
মন্তব্য করুন