ডেস্ক নিউজ
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম, হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে জাব্বারুল ইসলাম জাব্বার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পেশায় সাবেক অটোচালক থেকে রাতারাতি সাংবাদিক বনে যাওয়া এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে এই ব্যক্তি নিজেকে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন পোর্টালের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার এহেন কর্মকাণ্ডে রাণীশংকৈল উপজেলার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে নামসর্বস্ব প্রেস ক্লাব বা সাইনবোর্ডসর্বস্ব সংগঠন খুলে চাঁদাবাজি করা তার রুটিনকাজে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সাংবাদিক আখতারুজ্জামান জানান, “জব্বারের মতো ব্যক্তিরা হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মান ক্ষুণ্ণ করছে। অতীতে তার পেশা ও চলাফেরা সম্পর্কে সবাই ওয়াকিবহাল। অথচ আজ সে ভুয়া পরিচয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফায়দা লুটছে।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বে একটি নির্দিষ্ট এলাকার স্থানীয় পরিবহন চালক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে এই কথিত সাংবাদিকের আয়ের উৎস নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বা সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই একটি ফেসবুক পেজ ও অনলাইন পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি এই ভুঁইফোড় চক্রের অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জন্য অনুসন্ধানে নামেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এরপর থেকেই বিচলিত হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। অনুসন্ধানী টিমকে ফোন করে তিনি বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দেন এবং প্রচ্ছন্ন চাপ সৃষ্টি করেন। প্রতিবেদককে ফোনে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ সুরে বলেন, “উপজেলায় কত সাংবাদিক দেওয়া যায়! যার যোগ্যতা আছে সে সাংবাদিক করবে।” অথচ নিজের ব্যবহৃত ওই ফেসবুক পেজ বা তথাকথিত পোর্টালের কোনো বৈধ সরকারি নিবন্ধন বা প্রিন্ট রূপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্ন তুলতেই তিনি এড়িয়ে যান এবং উল্টো সাংবাদিকদের তথ্য গোপনের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন।
উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই ধরনের কথিত সাংবাদিকদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় রাণীশংকৈল উপজেলার সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
মন্তব্য করুন