নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার কয়রায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে অনলাইন জুয়ার আসর থেকে আটক সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের যুবকদের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জুয়া ও মাদকের কারবারের পাশাপাশি এলাকায় সাধারণ মানুষকে মারধর, জোরপূর্বক চাঁদা আদায় এবং দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
রোববার দিনভর কয়রা থানা পুলিশ উপজেলার মদিনাবাদ ও ৫ নম্বর কয়রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট আটজনকে আটক করে। এর মধ্যে প্রথম অভিযানে কয়রা প্রতিবন্ধী স্কুল সংলগ্ন কালভার্ট এলাকা থেকে আটক তিনজন—মো. জাহিদ হাসান শেখ, মো. আশিকুজ্জামান আকাশ সরদার এবং আশিকুজ্জামান আশিক সবাই প্রতিবেশী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতদের মধ্যে আশিকুজ্জামান আশিক গাবুরা ইউনিয়ন ছাত্রদলের একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। এই রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মারধর করা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের বহু অভিযোগ রয়েছে। গাবুরার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই দুর্ধর্ষ চক্রের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পেত না। জুয়া ও মাদকের পাশাপাশি ওই ছাত্রদল নেতার বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র মজুত রয়েছে বলেও তথ্য দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ডিভাইস পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া পরিচালনার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় কয়রা থানায় ‘অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর অধীনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ধর্ষ এই অপরাধী চক্র ও চিহ্নিত চাঁদাবাজদের কোনো অবস্থাতেই যাতে জামিন দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। এলাকার যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং ওই নেতার বাড়িতে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে খুলনা জেলা ও দায়রা জজসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন