ঠাকুরগাঁও,প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে জাতীয় দৈনিক সরজমিন বার্তা, দৈনিক সাতক্ষীরা দিগন্ত ও ডিএসডিটিভির বিভাগীয় প্রধান এবং প্রবীণ সাংবাদিক মো. খাইরুল ইসলামের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের দোসর ও চিহ্নিত অপরাধী আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে এই ন্যক্কারজনক হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর আন্দোলনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পরিবার জানায়, সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালের ভুয়া বা নতুন পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে আব্দুল জব্বার এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করে। সাংবাদিকতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি, অপপ্রচার এবং নানাবিধ চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছিল সে। এর প্রতিবাদ করায় এবং একটি সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খাইরুল ইসলামের ওপর সরাসরি এই বর্বরোচিত হামলা চালায় আব্দুল জব্বার ও তার সহযোগীরা। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় সাংবাদিক খাইরুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক ছিনতাই মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার রেকর্ড রয়েছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও এই চক্রটি বিভিন্ন সময় ভোল পাল্টে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশের পোশাক পরিধান করে নিজের ফেসবুক আইডি ও পেজে বিভিন্ন উসকানিমূলক ছবি, ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর স্ট্যাটাস দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করে আসছে সে। নাটুকে বা ভুয়া ফিল্মি স্টাইলে পুলিশের পোশাক ব্যবহারের কোনো বৈধ অনুমতি বা এখতিয়ার তার না থাকলেও তিনি এ আইন অমান্য করে আসছেন। এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, অনুমতি ছাড়া কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক পরতে পারে না এবং এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।
এদিকে, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খাইরুল ইসলামের ওপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও বিভিন্ন গণমাধ্যম সংগঠনের নেতারা। তাঁরা বলেন, একজন পেশাদার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের ওপর এই ধরনের হামলা কেবল ব্যক্তির ওপর নয়, বরং গোটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
ঘটনার পর রাণীশংকৈল থানায় একটি নিয়মিত এজাহার বা মামলার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত আব্দুল জব্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে স্থানীয় সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও হামলাকারী আব্দুল জব্বারকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাণীশংকৈলে কঠোর আন্দোলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা অবিলম্বে এই ভুঁইফোড় অপপ্রচারকারী, পুলিশের পোশাকের অপব্যবহারকারী এবং সাংবাদিক নির্যাতনকারী আব্দুল জব্বারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার ব্যবহৃত তথাকথিত অনলাইন পত্রিকার বৈধতা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন