বিশেষ প্রতিনিধি :
খুলনার পাইকগাছায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। বাজারে চাহিদামতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পরিচিত কয়েকটি কোম্পানির সিলিন্ডার খুঁজে পেতেও দোকানে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কোথাও সরবরাহ না থাকায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে, আবার কোথাও বেশি দাম দিয়েও কিনতে হচ্ছে রান্নার জ্বালানি। ভোক্তাদের অভিযোগ, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার বর্তমানে
পাইকগাছার বিভিন্ন বাজারে ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়
বিক্রি হচ্ছে। অথচ চলতি অক্টোবর মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি
রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
সে হিসাবে প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪১৩ থেকে ৪৬৩
টাকা বেশি দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
বাজারে যমুনা, ফ্রেশ, বসুন্ধরা, ওমেরা, বিএম ও টোটালের মতো পরিচিত
ব্র্যান্ডের সিলিন্ডারের সরবরাহ কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ক্রেতারা।
তাঁদের ভাষ্য, কোনো কোনো দোকানে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির
সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও অন্য ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার মিলছে না। এতে পছন্দের
ব্র্যান্ডের গ্যাস কেনার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। পাইকগাছার
গৃহিণী আসমা বেগম বলেন, রান্নার জন্য গ্যাস প্রয়োজন হলেও
চাহিদামতো সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি কোম্পানির
সিলিন্ডার মিললেও খালি সিলিন্ডার বদলে গ্যাস নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
ফলে নতুন সিলিন্ডারসহ গ্যাস কিনতে হচ্ছে।
আসমা বেগমের ভাষ্য, নতুন সিলিন্ডারসহ ১২ কেজি গ্যাস কিনতে ৩
হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। সংসারের অন্যান্য
খরচের সঙ্গে বাড়তি এই ব্যয় সামলাতে তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভোক্তারা জানান, গ্যাসের সংকট ও বাড়তি দামের কারণে রান্নার
খরচ বেড়ে গেছে। অনেকেই একাধিক দোকানে খোঁজ করেও সিলিন্ডার
পাচ্ছেন না। আবার রান্নার প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হয়ে বেশি দামে
কিনছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর
বাড়তি চাপ পড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের। বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের
সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। সরবরাহের ঘাটতি,
বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা কৃত্রিম সংকটের কারণে এমন
পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন
স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের
পাশাপাশি নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি
জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোন কোম্পানির সিলিন্ডার কতটা
সরবরাহ করা হচ্ছে এবং খুচরা পর্যায়ে কী দামে বিক্রি হচ্ছে, তা
নজরদারির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বসুন্ধরা এলপিজির উপকূলীয় চার উপজেলার পরিবেশক কপিলমুনির
মেসার্স নির্মাণ বিপণির স্বত্বাধিকারী বিপ্লব কুমার সাধু বলেন,
তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাসিক চাহিদা ১২ হাজার সিলিন্ডার। কিন্তু গত মাসে
কোম্পানি থেকে মাত্র ২ হাজার ৭০০টি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে।
চলতি মাসে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ কারণে বাজারে
গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহের এই ঘাটতির প্রভাব পড়েছে
খুচরা বাজারেও। পাইকগাছা বাজারের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতা আল-
মুনসুর বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। এ কারণে
তাঁরা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। যেসব ব্যবসায়ীর কাছে
আগে থেকে মজুত ছিল, তাঁদের কেউ কেউ বেশি দামে বিক্রি করেছেন।
কপিলমুনি বাজারের শ্রীরামপুর মোড় এলাকার কনক সাহার বিরুদ্ধে
বসুন্ধরা গ্যাস সিলিন্ডার প্রতি ২২ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান
চৌধুরী জানান, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলপিজি
ডিলারদের নিয়ে সভা হয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের সরকারি নির্দেশনা
মেনে চলার কথা বলা হয়েছে।
তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, নির্দেশনা দেওয়ার পরও বাজারে নির্ধারিত দামে
গ্যাস বিক্রি এবং সরবরাহ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। ফলে
সিলিন্ডার থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় গ্যাস না পাওয়া এবং বেশি দাম
দিয়ে কেনার ভোগান্তি থেকেই যাচ্ছে
মন্তব্য করুন