মোঃ শেখ ফরিদ ( জেলা প্রতিনিধি)
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের বিদিরপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসা মোড় এলাকায় নির্বাচনী ফেস্টুন ও অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাটিকাটা ইউনিয়নের বিদিরপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসা মোড় এলাকায় একটি চেম্বারের সামনে মেজর জেনারেল (অব.) মো. শরিফ উদ্দিনের নির্বাচনী ফেস্টুন এবং নেসকোর চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো একটি ফেস্টুন ছিল। অভিযোগকারীর দাবি, দুপুরের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ওই ফেস্টুনগুলো ছিঁড়ে ফেলেন।
অভিযোগকারী দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা-কর্মী বা সমর্থক জড়িত থাকতে পারেন। কারা ফেস্টুনগুলো ছিঁড়েছেন, কেন ছিঁড়েছেন এবং ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, প্রকাশ্য স্থানে এভাবে প্রচারসামগ্রী ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছেন। তার দাবি, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে পোস্ট বা প্রচারণা করছেন, তাদের মধ্যেও ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ আছেন কি না, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হোক।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় রাজনৈতিক বা নির্বাচনী মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু কোনো পক্ষের প্রচারসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত করা কিংবা বিরোধের জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় আইন নিজের হাতে না নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা উচিত।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নির্বাচনী ফেস্টুন, ব্যানার বা কোনো ব্যক্তিকে অভিনন্দন জানিয়ে টাঙানো প্রচারসামগ্রী নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো যেতে পারে। কিন্তু প্রকাশ্যে সেগুলো ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। এতে এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
অভিযোগকারী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, মাটিকাটা ইউনিয়নে যাতে কোনো পক্ষের প্রভাব বা সংঘবদ্ধ কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো উত্তেজনা বা সংঘাতের সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ফেস্টুন-ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
তবে ফেস্টুন-ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বা সমর্থকরা জড়িত আছে বলে মনে করেন অনেকে।
মন্তব্য করুন