মোঃ খায়রুল ইসলাম, রংপুর বিভাগ প্রধান
ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের সেবা গ্রহণে নানা ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলার নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রম একজন স্থায়ী ইউএনওর অনুপস্থিতিতে ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বর্তমানে রাণীশংকৈল উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মজিবুর রহমান একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে চরম ব্যস্ততার মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ভূমি সংক্রান্ত দাপ্তরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়েও তাকে সমন্বয় করতে হচ্ছে। ফলে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তাকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দুই উপজেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে হওয়ায় রাণীশংকৈলে নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজ, সরকারি দাপ্তরিক কার্যক্রম এবং সেবা প্রত্যাশী মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কাঙ্ক্ষিত গতি না আসার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এসে অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো অফিসিয়াল ও প্রশাসনিক কাজের জন্য তাদের পীরগঞ্জ উপজেলায় যেতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের সময়, অর্থ ও শ্রম—তিনটিই ব্যয় হচ্ছে।
বিশেষ করে জমি-জমা, প্রশাসনিক অনুমোদন, বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের সমন্বয়, উপজেলা পর্যায়ের সভা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একজন স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, রাণীশংকৈলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলায় দীর্ঘদিন স্থায়ী ইউএনও না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে হলে একজন পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই।
এ অবস্থায় রাণীশংকৈল উপজেলায় অতি দ্রুত একজন স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত একজন স্থায়ী ইউএনও নিয়োগ করা হলে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে, বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর হবে এবং সাধারণ মানুষ নিজ উপজেলাতেই নির্বিঘ্নে সরকারি সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
জনস্বার্থে রাণীশংকৈল উপজেলার প্রশাসনিক শূন্যতা দ্রুত পূরণ করে একজন স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন