মোঃ খায়রুল ইসলাম রংপুর বিভাগীয় প্রধান,
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। জেলার শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষানুরাগীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে এ উপলক্ষে সৃষ্টি হয়েছে আনন্দ ও উৎসাহের পরিবেশ।
ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ জেলা ও আশপাশের অঞ্চল থেকেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করতে পারবেন। এতে উচ্চশিক্ষার জন্য দূরবর্তী শহরে যাওয়ার চাপ ও ব্যয় কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে।
শুধু উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি নয়, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হলে উত্তরাঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার পরিসরকে আরও সমৃদ্ধ করবে। পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আবাসন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন সেবাখাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে তাই শুধু একটি অবকাঠামোগত উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন