জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী
দলিল নিবন্ধন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে পেশাচ্যুত না করা, দলিলপ্রতি ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ এবং আইনি সুরক্ষাসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে সমাবেশ ও শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন দলিল লেখকেরা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ২৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত পটুয়াখালী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় চত্বরে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পটুয়াখালী সদরসহ জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ জন দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতা-কর্মী এতে অংশ নেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব, বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি ও পটুয়াখালী জেলা শাখা সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আকন। পটুয়াখালী জেলা দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মতিউর রহমান তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পটুয়াখালী সদর উপজেলা শাখা সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জুয়েল মৃধা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পটুয়াখালী জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুর রব, সহ-সভাপতি কবি মোঃ সিদ্দিকুর রহমান আকন ও মোহাম্মদ শামসুল হক সোহেল গাজী। এছাড়া জেলার সাতটি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা এতে বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকেরা নানামুখী পেশাগত সংকট ও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় কেন্দ্র ঘোষিত সাত দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।
দলিল লেখকদের ৭ দফা দাবি
দলিল নিবন্ধন পদ্ধতি আধুনিকায়নের অজুহাতে কোনো সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখককে পেশাচ্যুত করা যাবে না।
দলিলপ্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করে দ্রুত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কোনো অদক্ষ ব্যক্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীকে দলিল লেখা ও মুসাবিদা করার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
জমি বা দলিলে পক্ষগণের সরবরাহ করা তথ্যাদি ও কাগজপত্র যাচাই করে দলিল সম্পাদন করা হয়। ফলে কোনো ত্রুটির কারণে দলিল লেখকদের ঢালাওভাবে আসামি বা অহেতুক আইনি হয়রানি করা যাবে না।
জেলা ও উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় প্রাঙ্গণে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বসার স্থান ও নামাজের ঘর নির্মাণ করতে হবে।
জেলা ও উপজেলা (থানা) কমিটির সুপারিশ ব্যতীত কোনো অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নতুন করে দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।
পেশার সুষ্ঠু পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে পৃথক ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমোদন দিতে হবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা জিয়াউর রহমান জুয়েল মৃধা পটুয়াখালী জেলার সকল উপজেলার দলিল লেখকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ধারাবাহিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে পটুয়াখালী সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় চত্বর থেকে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচি চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন