নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) যোগদানের পরই নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের ভয়ঙ্কর তথ্য ফাঁস হয়েছে। যোগদানের মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জেলার বাইরের ঠিকাদারদের ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৭০ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেনে বদলি হয়ে আসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। সেই বিনিয়োগ দ্রুত তুলে নিতে তিনি এখন স্থানীয় ঠিকাদারদের কোণঠাসা করে বেপরোয়া ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে সাতক্ষীরা এলজিইডি অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ বাগিয়ে নেন মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। অফিসে যোগ দিয়েই তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করতে এবং বদলির খরচ উঠাতে নানা সিন্ডিকেটের সঙ্গে গোপনে বৈঠক শুরু করেন। এই নেপথ্য লেনদেনের কারণেই সাতক্ষীরা এলজিইডির অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে চরম অসন্তোষ ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বহিরাগত জেলার একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের পরামর্শে নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বড় বড় উন্নয়ন কাজগুলোকে ‘ওটিএম’ (Open Tendering Method) প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারা করছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় ঠিকাদারদের প্রতিযোগিতা থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে ফেলা এবং বাইরের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কাজের নির্ধারিত ৪ শতাংশ কমিশন সরাসরি এই কর্মকর্তার পকেটে ঢুকছে।
এছাড়া, সাতক্ষীরায় যোগদানের পরপরই বিভিন্ন সমাপ্ত ও চলমান প্রকল্পের প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার ঠিকাদারি বিল পাস করিয়ে দিয়েছেন তিনি। এই বিল ছাড় করার বিনিময়েও সরাসরি ৪ শতাংশ হারে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অকাট্য তথ্য পাওয়া গেছে।
উত্থাপিত এসব দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ একবাক্যে এড়িয়ে যান। এ সময় সংবাদকর্মীরা সুনির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি অত্যন্ত রুক্ষ, অসংবেদনশীল ও অপমানজনক আচরণ করেন। কোনো স্পষ্ট জবাব না দিয়ে তথ্য গোপনের এই অপচেষ্টা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
এলজিইডির এই নজিরবিহীন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও কমিশন বাণিজ্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয় ঠিকাদার সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে। অনতিবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরার সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন