মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন বিশেষ প্রতিনিধিঃ
”নারীর হাতে কৃষি কাজ, বদলে যাবে দেশের সাজ”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদে র্যালি, আলোচনা সভা ও নারী কৃষকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। একশনএইড বাংলাদেশ-এর প্রগতি প্রকল্পের সহায়তায় ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার সকাল ১০টায় এ আয়োজন করা হয়|
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত নারী কৃষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং একশনএইড বাংলাদেশ ও প্রগতি প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি রমজাননগর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা প্রদক্ষিণ করে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়| পরে ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রগতি প্রকল্পের কেস ওয়ার্কার মোছাঃ জেবুনন্নেছা খাতুন সঞ্চালনা করেন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান এবং আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ উদযাপনের উদ্দেশ্য তুলে ধরেন একশনএইড বাংলাদেশ প্রগতি প্রকল্পের হাব কো-অর্ডিনেটর মোঃ আছের আলী|
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রত কুমার বিশ্বাস| সভাপতিত্ব করেন রমজাননগর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ জাহাঙ্গীর আলম| প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. সুব্রত কুমার বিশ্বাস বলেন, নারী কৃষকরা ভোরের সূর্যোদয় থেকে রাত পর্যন্ত কৃষিকাজের পাশাপাশি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের মাধ্যমে পরিবারের খাদ্য ও জীবিকা নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি প্রাণিসম্পদের রোগবালাই প্রতিরোধে টিকাদান ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সেবা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সীমিত সরবরাহের কারণে বিনামূল্যে শতভাগ টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, Óসরকারি এই সংকট ও ঘাটতি পূরণে একশনএইড যেভাবে পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তাদের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।Ó
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ আমিনুর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন, ইউপি সদস্য মোঃ সোহরাব হোসেন, মোঃ আব্দুস সালাম, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং দিপালী রাণী গায়েন| এছাড়া উপস্থিত ছিলেন একশনএইড বাংলাদেশ সিএসজিআরসি-এর প্রোগ্রাম অফিসার মোঃ সেলিম হোসেন, প্রগতি প্রকল্পের কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব, প্রগতি প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং রমজাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত নারী কৃষকরা|
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি তাদের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা, বাজারসংযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকায় নারী কৃষকদের কৃষিকাজে টিকে থাকা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ|
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃষিকাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুইজন নারী কৃষককে সম্মাননা প্রদান| চাঁদখালী গ্রামের টিয়া রাণী বর্মন এবং রমজাননগর গ্রামের রোমেছা খাতুনকে কৃষিকাজে তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা প্রদান করা হয়|
আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে নারী কৃষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি চর্চা এবং স্থানীয় পর্যায়ে নারী কৃষকদের ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়| প্রগতি প্রকল্পের সহায়তায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন গ্রামের নারী কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে
মন্তব্য করুন