মোঃ আছাদুজ্জামান লিটন বিশেষ প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামে উদ্যোগী কৃষক ও যুবদের নিয়ে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা্য (এগ্রোইকোলজি) ও জলবায়ু ন্যায্যতা বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় রমজাননগর, কৈখালী, নূরনগর, ভূরুলিয়া, কাশিমাড়ি ও আটুলিয়া ইউনিয়নের কৃষিপ্রতিবেশ চর্চাকারী, আগ্রহী কৃষক ও যুব উদ্যোক্তাসহ ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন সরমা রানী।
কর্মশালায় কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যার ধারণা, বীজ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রদর্শনী, অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্ব ও গুণাগুণ, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ, গর্ত কম্পোস্ট ও ভার্মি কম্পোস্ট, মাটি ও জীবনের সম্পর্ক, মিশ্র ও সমন্বিত চাষাবাদ এবং জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টির সময়ে মাচা পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা দলীয় অনুশীলনের মাধ্যমে দেশি ও হাইব্রিড বীজের পার্থক্য, রাসায়নিক কৃষির ক্ষতিকর প্রভাব, স্থানীয় কৃষি ও পরিবেশের বিভিন্ন সংকট এবং এসব সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য করণীয় চিহ্নিত করেন। পাশাপাশি তাঁরা মথুরাপুর কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং হাতে-কলমে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যার বিভিন্ন চর্চা, জলবায়ু সংকট ও এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে স্থানীয়ভাবে গৃহীত অভিযোজন কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেন।
প্রশিক্ষক হিসেবে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রের প্রতিনিধি সরমা রানী ও শতবাড়ির সদস্য সুবোল সরদার বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, শতবাড়ির সদস্য সাবিনা আক্তার, সাগরিকা রানী, প্রস্তাবিত এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের প্রতিনিধি অর্চনা রানী, গ্রীণ কোয়ালিশন এর সদস্য শাহীন ইসলাম প্রমুখ।
অংশগ্রহণকারী কৃষক চপলা রানী বলেন, “জৈব পদ্ধতিতে ফসল চাষ এবং বীজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাড়িতে বীজ সংরক্ষণ করলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং পরিবারের আয় বাড়বে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু বাজারের ওপর নির্ভর না করে বসতবাড়ির প্রতিটি জায়গাকে কাজে লাগিয়ে চাষাবাদ করতে হবে। এতে পরিবার সুস্থ থাকবে এবং পরিবেশও ভালো থাকবে।”
অর্চনা রানী বলেন, “বসতভিটার পশু-পাখি, অণুজীব, ফসল, পুকুর, মাছ, সাপ, পোকা, প্রজাপতি ও ব্যাঙসহ প্রতিটি জীব ও উপাদানের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এসব সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে কী করা প্রয়োজন এবং কী করা উচিত নয়, সে বিষয়ে ধারণা পেয়েছি। প্রশিক্ষণের শিক্ষা কাজে লাগিয়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি নিজেদের সুস্থ রাখতে কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা চর্চা ও অনুশীলন করব।
মন্তব্য করুন